February 22, 2026, 3:21 pm

দৈনিক কুষ্টিয়া অনলাইন/
কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলায় জোড়া হত্যাকাণ্ডের মামলায় আপস না করায় ও মামলা তুলে নিতে অস্বীকৃতি জানানোর জেরে বাদীপক্ষের ওপর হামলার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় মামলার অন্যতম সাক্ষী আসমত গাইন (৫৫) গুরুতর আহত হয়েছেন। বর্তমানে তিনি কুষ্টিয়া সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
শনিবার (২১ ফেব্রুয়ারি) রাতে উপজেলার আড়িয়া ইউনিয়নের ছাতারপাড়া গ্রামে নিহতদের বাড়িতে দেশীয় অস্ত্র নিয়ে একদল দুর্বৃত্ত হামলা চালায় বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০২৪ সালের ৩০ অক্টোবর ছাতারপাড়া বাজারে পূর্ব বিরোধের জেরে প্রতিপক্ষের হামলায় গাইন পরিবারের দুই ভাই নিহত হন। তারা হলেন হামিদুল ইসলাম (৪৮) ও তার ছোট ভাই নজরুল ইসলাম (৪৫)। তারা ছাতারপাড়া এলাকার বেগুনবাড়িয়া গ্রামের মৃত রমজান আলীর ছেলে। ওই হামলায় আরও দুজন আহত হন, যাদের মধ্যে আসমত গাইনও ছিলেন।
এলাকাবাসীর দাবি, রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর এলাকায় প্রভাব বিস্তার নিয়ে বিরোধের জেরে গাইন ও পিয়াদা বংশের মধ্যে উত্তেজনা বাড়তে থাকে। এরই ধারাবাহিকতায় ২০২৪ সালে সংঘটিত হয় ওই জোড়া হত্যাকাণ্ড। এ ঘটনায় দায়ের করা মামলা সম্প্রতি প্রত্যাহারের জন্য বাদীপক্ষের ওপর বিভিন্নভাবে চাপ সৃষ্টি করা হচ্ছিল। মামলা তুলে নিতে অস্বীকৃতি জানানোয় এবার মামলার সাক্ষী আসমত গাইনের ওপর হামলা চালানো হয় বলে অভিযোগ উঠেছে।
আহত আসমত গাইনের ভাতিজা সজিব হোসেন জানান, ইফতারের আগে একদল অস্ত্রধারী ব্যক্তি তাদের বাড়িতে হামলা চালায়। এতে তার চাচা দেশীয় অস্ত্রের আঘাতে গুরুতর আহত হন। দ্রুত তাকে উদ্ধার করে কুষ্টিয়া সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। তিনি জানান, গত বছরের জোড়া হত্যাকাণ্ডের মামলায় আসমত গাইন একজন গুরুত্বপূর্ণ সাক্ষী।
এ বিষয়ে দৌলতপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আরিফুর রহমান বলেন, পূর্বের জোড়া খুনের ঘটনার জেরে এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে। একজন আহত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।